‘করচাপে ৫ বছরের মধ্যে ঝড়ে পড়বে আরো ২ মোবাইল অপারেটর’

৯ জুন, ২০২০ ০৮:২১  
‘আপনার চোর। বাটপার। শোষণকারী একটি প্রতিষ্ঠান।’ মোবাইল খাত নিয়ে জনারণ্যে প্রচলিত এসব গালির জবাবে তাদের ‘ভুল’ ভাঙতে এবার ফেসবুক লাইভে গ্রাহকদের মুখোমুখি হলেন রবি আজিয়েটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতে তারা ২.৫ লাখের মতো গ্রাহক হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ৫০ এমবি ফ্রি ডেটা এবং কল দিয়ে ঝরে পড়াদের মধ্যে ফেরত আনা হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজারের মতো গ্রাহক। সোমবার রাতে পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সেশনে টেলিকম খাতের ওপর করচাপ ও গ্রাহক পর্যায়ে এর প্রভাবের চিত্র তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে করের চাপ কমিয়ে আনা গেলে বর্তমানে মোটজাতীয় উৎপাদনে এই খাতটি দুই ডিজিটের অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে জানান মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) সভাপতি। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ অঞ্চলেই পৌঁছে গেছে ৪জি নেটওয়ার্ক। খাতটিতে ইতোমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। শুরু থেকে এ পর্যন্ত সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ১৪ লাখ কোটি টাকা। মূলধনী ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকার ওপর। সব মিলিয়ে জিডিপিতে অবদান ৬.৯৮ শতাংশ। এই পরিস্থিতে আসন্ন বাজেটে সরকার যদি করচাপ কমায় তবে সেবামূল্য কমানোর পাশাপাশি আগামী বছরেই জিডিপিতে ১০ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হবে দেশের টেলিকম খাত। গত এক দশকে জরুরী সেবার সঙ্গে মোবাইল সেবার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে মাহতাব উদ্দিন দেখান, এই সময়ের মধ্যে চলতি বছর পর্যন্ত গ্যাসের মূল্য সর্বোচ্চ ১০৬ শতাংশ বাড়ানো হলেও মিনিট প্রতি ভয়েস ট্যারিফের খরচ তারা ৩৫ শতাংশ কমিয়েছেন। একইসঙ্গে এমবি প্রতি ডেটা ট্যারিফ কমেছে ৯৭ শতাংশ। অথচ বর্তমানে গ্রাহকের ১০০ টাকা রিচার্জ থেকে ৭২ টাকা সরাসরি সরকারের কোষাগারে দিতে হয়। বাচি ২৮ টাকা ৫০ পয়সা দিয়ে গ্রাহককে সর্বোচ্চ মানের সেবা দিয়ে পুরো ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়। আবার গ্রাহকদের প্রতি সিম পরিবর্তনে তাদের ভর্তুকী দিতে হয় ২৬৩ টাকা। এমন পরিস্থিতে বাজারে ভারসাম্য প্রতিযোগিতা বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে মোবাইল অপারেটরদের। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপের কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১২টা অপারেটর থেকে তা এখন কমে এসেছে ৪টিতে। বাংলাদেশেও ৭টি অপারেটর থেকে এখন ৪টিতে নেমে গেছে। আর প্রতি বছরই যদি বাজেটে ধারাবাহিক ভাবে করচাপ বৃদ্ধি করা হয় তবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই সংখ্যা ২টিতে নেমে আসা অস্বাবিক কিছু নয়। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এখন যে দামে ডেটা বিক্রি করছি সেটা পুরোপুরি লস। এই লসটা কিন্তু টিকবে না, যখন একসময় ভয়েসটা কমতে থাকবে। এটা কয়েক বছরের মধ্যেই হবে। তাই আমাদের ডেটা দিয়ে চলতে হবে। এই দামে ডেটা বিক্রি করতে হলে সব অপারেটরই ফতুর হবে। এখন যদি আমরা এক পয়সা পার এমবি বিক্রি করি, এই জায়গাটায় যদি প্রাইস প্রোটেকশন দেয়া হয় তবে বছরে সরকারের আয় বাড়বে ৭০০ কোটি টাকা। এই ধরনের কিছু সমষ্টিক উদ্যোগ নেয়া হলে আমরা উৎসাহিত হয়ে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে পারবো। সার্ভিস ও নেটওয়ার্কের মান আরো উন্নয়ন করতে সক্ষম হবো। এটা যদি না করা হয়, সব কিছুই যদি চাপিয়ে দেয়া হয়, তবে তা কখনোই কাম্য নয়।